534>||--কুন্তী - কর্ন -|| কুন্তীর নিবেদন/কর্ণের স্বভিমান।
534>||--কুন্তী - কর্ন -||
কুন্তীর নিবেদন/কর্ণের স্বভিমান।
<-------©-আদ্যনাথ--->
কর্ন::-- জিজ্ঞাসিল ( কুন্তী রে হেরিয়া )
কে তুমি মাতা বলো আমারে,
পূর্বে দেখিয়াছি বলে নাহি স্বরনে,
জাহ্নবীর তীরে সন্ধ্যা আরতির কালে,
কে তুমি বলো মাতা বলো আমারে,
কেন আসিলে হেথা,আমার সমীপে।
এই অধিরথ পালিত সূতপুত্র,
রাধাগর্ভজাত কর্ন নাম মোর,
তুমি কি চিনিয়াছ আমারে।
নাকি শুধু কিছু অভিলাষ,
আছে তব মনে।
সন্ধ্যা উত্তীর্ণ প্রায়,
এই রণভূমিতে তুমি একাকী,
এইটুকু বুঝি তুমি নও কোন
সাধারন নারী।
তাইতো জিজ্ঞাসি কৌতূহল বসে,
কি অভিলাষ লয়ে।
এই কুরুসেনাপতি সনে।
জাহ্নবী তটে রণক্ষেত্র মাঝে,
আসিয়াছ আমার সনে।
মাতে যদি সরাও তব অবগুণ্ঠন,
দেখি মুখমণ্ডল চিনতে পারি কিনা পারি?
কুন্তী::-----
বৎস নিশ্চই চিনিবে আমারে,
যদি পরিচয় দেই তোমারে।
আমি সেই অভাগিনী।
যে তোমার জন্ম ক্ষণ পরে,
ভাসাইয়া দিয়াছিল যমুনার জলে,
কেবল মাত্র লোক লজ্জার ভয়ে।
আমি অর্জুন জননী কুন্তী।
কেবল মাত্র নিজের লজ্জা লুকাইতে,
তোমার জীবনের প্রথম রজনীতে,
ভাসাইয়া দিয়াছিলাম যমুনার জলেতে।
আজ ত্যাগিয়া সকল লাজ লজ্জা,
আসিয়াছ দিতে পরিচয় তোমারে,
ফিরাইয়া লইতে চাই নিজ সন্তানেরে।
তুমি নও রধাগর্ভজাত নও সুতপূত্র,
সূর্যের ন্যেয় ত্বেজ তোমার তুমি সূর্যপুত্র।
তুমি পান্ডব জ্যেষ্ঠ কুন্তী পুত্র।
কর্ন::----
কিৎক্ষণ রহিয়া নীরব,
তুমিই মোর গর্ভ ধারিনি জননী?
তবে সেদিন কেন ছিলেন নীরব,
অর্জুনের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের পরীক্ষা কালে।
আর মনে পরেকি দ্রৌপদীর সয়ম্বর কালে!
সমগ্র কৌরব,পাণ্ডব,সহ সমগ্র রাজন।
মহারথী ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য, সকলে,
সুতপুত্র বলে ধিক্কারিয়াছিল মোরে।
অর্জুন তো তোমার সদাই আদরের,
আমি চির অনাহুত অস্পৃশ্য অনাদরের।
কত লাঞ্ছনা,গঞ্জনা, সয়ে সয়ে,
দিবা রাত্র জ্বলছি আত্মগ্লানিতে,
আজ, নিজ বাহুবলে, দক্ষতার গুণে।
হয়েছি কুরু সেনাপতি,
দূর্যোধনের আদর ভালোবাসার গুণে।
সুত অধিরথ পালিল মোরে আদরে,
রাধা মোর জননী এই পর্যন্ত জানি,
আজ আপনাকে মাতারূপে কেমনে মানি।
জনাছিলনা নিজের বংশ,ধর্ম,গোত্র, গৃহ,
তথাপি একমাত্র দূর্যোধন আদর দিলো ।
আজ আপনাকে প্রথমে জানাই প্রণাম
লুণ্ঠিত হয়ে ভূমিতে।
তবুও আছি চিন্তিত আজ কেন,
আপনি আসিয়াছেন মোর সমীপে।
রাজমাতা আপনি কেন হেথা একাকিনী।
এ যে রণভূমি,আমি কুরুসেনাপতি।
কি আপনার অভিপ্রায় ।
বলুন মাতা বলুন আমারে।
শুধু মাত্র আমার পৌরুষ ও ধর্ম ছাড়া,
আর যাহাকিছু করিবেন আজ্ঞা,
সকলি দিতে পারি
আপনার চরণে নিবেদন।
কুন্তী,::-----
কোনও অভিলাষ লয়ে আসিনি বৎস,
শুধু মাত্র চাহি বন্ধ হোক এই যুদ্ধ।
ভাইয়ে ভাইয়ে এই ধন্ধ, অশনি সংকেত
ভাবাইছে মোরে।
উভয় দিকে আমার পুত্র, কিজানি কি হয়।
আমি চাহি ছয় পুত্রই যেন জিয়ে সমরে।
কর্ন::-------
মাতে আগে যদি জানতাম,
অর্জুন ভ্রাতা মোর, আমি রাজ পুত্র
নিশ্চই করিতাম চেষ্টা বিরত থাকিতে।
এইক্ষনে অসম্ভব যুদ্ধ বিরতি ।
আমি না করিলে যুদ্ধ অকৃতজ্ঞ রূপে
বিবেচিত হইবো।
লাঞ্ছনা পূর্ণ জীবন আমার,
জানিয়া বুঝিয়া আর কেন লাঞ্ছনা সহি।
তবে এটি নিশ্চিত আপনার পঞ্চপান্ডব
রহিবে ঠিক।
ষষ্ঠ পাণ্ডব ভুলিতে হইবে আপনাকে।
অর্জুনের সাথে আমার যুদ্ধ নিশ্চিত ।
দুইজনের একজন নিশ্চিত বাঁচিবে।
অর্জুন কিম্বা আমি যেই বাঁচুক আপনার
পঞ্চপান্ডব রহিবে ঠিক।
কুন্তী::-----
তুমি নও সুতপূত্র,নও রাধাগর্ভজাত।
তুমি সূর্য পুত্র বীর শ্রেষ্ঠ ।
জিতিয়া দিয়াছ দুর্যোধনেরে সমগ্র
ভারতবর্ষ।
তোমারে জিনিবে এমন সাধ্য কাহার।
সূর্যপূত্র তুমি,
জন্ম কালেই সূর্য দিয়াছেন কবজ ও
কুন্ডল ।
তুমি অজেয় অটল,সূর্যের ন্যায় ত্বেজ বীর্য
দানেও সর্বশ্রেষ্ঠ।
কর্ন::-------
মাতে এতেক তোমার চিন্তা সঠিক
তাহাতে নাই ভুল।
কিন্তু মাতে দেবরাজ ইন্দ্র ব্রাহ্মণের বেশে
ছলকরি ভিক্ষা মাগিয়া লইয়াছে মোর
কবজ কুণ্ডল।
ইহা ভিন্ন আছে গুরু পরশুরামের
অভিশাপ।
ছল কোরে হয়েছিলাম পরশুরামের শিষ্য।
সেই ছলের কারনে
পরশুরাম মোরে দিয়াছেন অভিশাপ জীবনের শেষ যুদ্ধে,
পরশুরামের সমস্ত বিদ্যা যাব ভুলে।
কেবল জানানাই এই কুরুক্ষেত্র ই কি
আমার শেষ যুদ্ধ ক্ষেত্র।
এই গুপ্ত সত্য হইলে জ্ঞাত বুঝিতাম,
যুদ্ধ শেষে পৃথিবীতে কে রহিবে অর্জুন
অথবা আমি কর্ণ ।
মাতা এইটুকু করিলাম অঙ্গীকার।
অর্জুন ভিন্ন পাণ্ডবদের কাহাকেও
করিবনা প্রহার।
আপনার পাঁচ পুত্রের পাঁচ পুত্রই রইবে।
ইহা নিশ্চিত এই যুদ্ধে আমি অথবা
অর্জুন কেউ একজন রহিবে।
যদি দূর্যোধনের জয় হয়,
তবেই আমি পান্ডবের সাথে যোগ দিব।
পাণ্ডবেরা জিতিলে নিশ্চিত আমার
সদগতি হইবে।
কারন আমার প্রতিজ্ঞা।
বিজয়ীরে ত্যগিয়া নুতন রূপে
রাজ্য গরীব।
হে মাতা আপনি ষষ্ঠ পুত্রের
আশা করুন ত্যাগ।
হে মাতে অতি সত্য বলি,
যেখানে সয়ংকৃষ্ণ বিরাজিছেন,
সেথা কিসের চিন্তা।
কৃষ্ণই যখন অর্জুনের সারথি
অর্জুনকে বধিবে কাহার সাধ্যি।
বৃথাই আপনার চিন্তা ।
নিশ্চই হইবে জয় পাণ্ডবের,
আমি রব নিষ্ফল হতাশের দলে।
জন্মমাত্র আমরে ভাসাইলে যমুনায়,
করিলে নাম গোত্র হীন,অসহায়।
নাই রাজ্যের লোভ, নাচাই সিংহাসন,
পাইনি নাম গোত্র, কি কাজ বৈভবে।
সত্য যদি হয়েথাকো আমার জন্মদাতা,
মিনতি এইটুকু করিও আশীর্বাদ,
জয়, যশ, রাজ্য কিছুই নাহি প্রয়োজন,
আকাঙ্খা এই টুকু মৃত্যুরে যেন না ডরাই।
হাসিতে হাসিতে বীরের মতন যেতে চাই,
বীরের সদ্গতি যেন পাই।
কর্ণের মর্মভেদী বচনে, অশ্রু পূর্ণ নয়নে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কুন্তী প্রস্থান করিলেন
কর্ন কে করিয়া আশীষ।
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc-20/12/2018--】
【=রাত্রি:01:20:22pm=】
【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
=========================
Comments
Post a Comment