532> ||-কুন্তী- এক পলকে -||


 532> ||-কুন্তী- এক পলকে -||
                   <----©-আদ্যনাথ--->

স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টির গুনে মহাকাব্য,
মহাভারত হায়েছে কাব্য শ্রেষ্ঠ।
এত শত চরিত্র নিয়ে এমনকাব্য
স্রষ্টার এক অভূতপূর্ব সৃষ্টি কাব্য।

প্রতিটি চরিত্র সকলেই অনন্য,
প্রতিটি চরিত্র যেন একটি  কাব্য।
স্রষ্টার সৃষ্টির অপূর্ব সুন্দর ভব্য,
শতঊর্ধ চরিত্র সমন্যিত মহাকাব্য।

এহেন কাব্যে বর্ণিত এক নারী চরিত্র,
সেই চরিত্র  পঞ্চসতীর অগ্রগণ্য।
মহাভারতের যিনি প্রধান চরিত্র,
শূরসেনের কন্যা তিনি,
হস্তিনাপুরের রাজা পাণ্ডুর স্ত্রী,
রাজা কুন্তী-ভোজের পালিতা কন্যা ।
অঙ্গরাজ কর্ণ, ইন্দ্রপ্রস্থের অধিপতি
যুধিষ্ঠির, ভীম এবং অর্জুন পুত্র যাহার।
কৃষ্ণের প্রতি ভক্তির দর্শন ব্যক্ত করে
সেই পৃথ্বা, কুন্তীই ভক্তিযোগের স্রষ্টা।
বাসুদেবের বোন ছিলেন তিনি,
রাজ মহিষী সর্ব কালের শ্রেষ্ঠ নারী।

মহাভারতে প্রধান চরিত্র কুন্তী তিনি,
চিন্তার অতীত ছিলেন যিনি।
পঞ্চপান্ডব যাহার সন্তান,
যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব,
পঞ্চপাণ্ডব নামে পরিচিত।
নকুল ও সহদেব তার সতীন মাদ্রীর গর্ভে,
তবুও কুন্তী তাঁদের আপনপুত্রের অধিক
স্নেহ দিতে কুণ্ঠা করেননি কোনদিন।

কুন্তীর ছিলো আরো এক পুত্রসন্তান,
যা তার যৌবনের গোপন ক্ষুদার দান।
যাহারে অনাদরে ভাষায় যমুনার জলে,
অবৈধ সন্তান বলে লোকলজ্জার ভয়ে।

জারজ সন্তান রূপে কর্ন হলেন গণ্য,
মাতৃ তেজ্য  কর্ন দানবীর রূপে গণ্য।
তার দান ও বীরত্বে মুদ্ধ  দূর্যোধন
নিজের স্বার্থে  তারে দিলেন অঙ্গ রাজ্য।

কুন্তীর যৌবন কালে,
তাঁর গৃহে দুর্বাসা মুনি এলেন অতিথি হয়ে,
কুমারী তন্বী লাস্য ময়ীকুন্তীর সেবা যত্ন আদরে,
দুর্বাসা হলেন মোহ মুদ্ধ পিপ্ত তুষ্ট।

অবশেষে দুর্বাসা তৃপ্তি পূর্ণ তুষ্ট হৃদয়ে,
খুশির জোয়ারে ভেসে কুন্তীকে দিলেন,
 অদ্ভুত এক বর।
বরটি এক বিস্ময়কর অসাধারন বর,
কুন্তী কোন দেবতাকে করলে স্মরণ,
সেই দেবতা এসে কুন্তীকে তৃপ্ত করবেন,
যৌনসঙ্গমে তৃপ্ত কুন্তী গর্ভবতী হবেন,
এবং ইচ্ছা অনুসারে পুত্রসন্তান পাবেন।

বর পেয়ে কুন্তী কুমারী অবস্থাতেই,
সর্বশক্তিমান সূর্যদেবকে করেন কামনা,
সূর্য দেব কুন্তীর আহ্বানে আপ্লুত হৃদয়ে,
কুন্তীর যৌণ ক্ষুদা মিটাইলেন।
সূর্যদেবের সাথে মিলনসঙ্গমে তিপ্ত,
কুন্তী গর্ভবতী হয়ে এক পুত্র সন্তান
জন্ম দিলেন।

কুমারী অবস্থায় সন্তান প্রসব করায়, লোকলজ্জার ভয়ে সন্তানটিকে,
যমুনার জলেতে ভাসিয়ে দিলেন।
এই পুত্রই মহাভারতে পরবর্তী কালে
দান বীর কর্ণ নামে পরিচিত হন।

সূর্যদেবের ঔরসে কুন্তীর গর্ভে দানবীর
অঙ্গরাজ কর্ণের জন্ম।
কর্নের অসীম শক্তি ও দানের জন্য
মহাভারতে শ্রেষ্ঠ বীর রূপে গণ্য।

সময়ে কুন্তী-ভোজ কুন্তীর জন্য,
স্বয়ংবরের আয়োজন করলেন,
কুন্তী পাণ্ডুর গলায় মালাদিলেন।
মাদ্রী পাণ্ডুর আরেক স্ত্রী ছিলেন।

একদিন পাণ্ডু মাদ্রী ও কুন্তীকে নিয়ে হিমালয়ের দক্ষিণে বেরিয়ে পরেন।
সেখানে এক মুনি কিমিন্দম,
হরিণের রূপ ধরে এক হরিণীর সাথে
ছিলেন সঙ্গমে লিপ্ত।
পাণ্ডু হরিণ-হরিণী কে করলেন হত্যা।
মুনি কিমিন্দম আপণ রূপ ধরে,
মৃত্যুর আগে কিমিন্দম পাণ্ডুকে
এক শাপ দিলেন।
অভিশাপ টি ছিল বরই বেদনা দায়ক,
অতি ভংকর।
পাণ্ডু যদি কোন নারীর সাথে
সঙ্গমে লিপ্ত হয় তবে তাঁর মৃত্যু অনিবার্য।


এহেন ঘটনার পরে পাণ্ডু যখন,
কুন্তী’র সাথে, সন্তানলাভ করার
ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সেই ক্ষণে কুন্তী দুর্বাসা মুনির
বরের কথা প্রকাশ করেন।

অগত্যা কামাতুর নিরুপায় পাণ্ডু,
প্রথমে এক ধার্মিক পুত্র চাইলেই।
কুন্তী উপযুক্ত মনে করে ধর্মদেবকে
আহবান করেন,
ধর্মদেবের সাথে সঙ্গমে পূর্ণ তৃপ্ত কুন্তী,
ধর্মদেবের ঔরসে কুন্তী গর্ভধারণ করেন।
এই মিলন সঙ্গমের ফলে পাণ্ডুর
ক্ষেত্রজ পুত্র,ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের হয় জন্ম।

অতপর পাণ্ডু এক বলশালী পুত্র
লাভের ইচ্ছা প্রকাশ করলে,
কুন্তী পবনদেবের সাথে যৌণ মিলনে
লিপ্ত হলেন।
পবনের ঔরসে কুন্তী গর্ভবতী হন,
পবনের ঔরসে  ভীমের জন্ম হয়।

তারপর কুন্তী আবার  বীর দেবরাজ
ইন্দ্রের সাথে সঙ্গমে হলেন লিপ্ত।
এই মিলনের ফলে ইন্দ্রের ঔরসে কুন্তী অন্তঃসত্বা হন, ও ইন্দ্রের ন্যায় বীর সন্তান,
অর্জুনের জন্মদান করেন।

সতীন মাদ্রী পুত্রলাভ করতে
এই বিশেষ মন্ত্র কুন্তীর কাছ থেকে
জেনে নেন।
কুন্তীর তিন পুত্র, সেই ঈর্ষায় মাদ্রী
প্রথমেই দুই পুত্র চাইলো।
একসাথে দুই পুত্রলাভের জন্য তিনি
বুদ্ধি করে পুত্রেষ্টি মন্ত্র দ্বারা একত্রে দুজন সবিতপুত্র অশ্বিনীকুমারদ্বয় কে কামনা করেন।

দুজনের সাথে একত্রে মিলনের ফলে
দুজনের ঔরসে গর্ভসঞ্চার হয় মাদ্রীর।
জন্ম হয় দুই পুত্রের-সহদেব ও নকুল।

পাণ্ডুর দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নিল একে একে,
 যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব,
এই পাঁচ পুত্র হলো পঞ্চপাণ্ডব।

একদা অত্যন্ত কামার্ত অবস্থায় পাণ্ডু
মাদ্রীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হলে কিমিন্দম মুনির শাপে পাণ্ডুর মৃত্যু হয়।
পাণ্ডুর সাথে তাঁর সপত্নী মাদ্রী সতী হন।
কুন্তী কিন্তু সহমরণে রাজি নাহি হন।

শেষ জীবনে কুন্তী, ধৃতরাষ্ট্র ও
গান্ধারীর সঙ্গে তপোবনে দিন কাটান।
একদিন তপোবনের এক ভয়াবহ
দাবানলে ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারীর সাথে
কুন্তীও মৃত্যুবরণ করেন।

পতি ভিন্ন অন্যের  সঙ্গে মিলন ঘটিয়ে পুত্রলাভ করেও কুন্তীদেবী,
 পঞ্চসতীর মধ্যে অগ্রগণ্য।
কুন্তী কখনো তার প্রথম পুত্র কর্ণকে
পুত্র রূপে করেন নি মান্য।

কিন্তু অর্জুনকে বাঁচাইতে কর্ণের
কবজকুন্ডল দান রূপে চাহিল।
দানবীর কর্ন নিজের রক্ষাকবচ
কুন্তী কে স্বাদরে দান দিল।

অর্জুন, কর্ন উভয়ই কুন্তীর সন্তান,
অগ্রজ কে ত্যাগিয়া অনুজকে
রক্ষা করিলেন।

কর্ন উপেক্ষিত অতি সত্য
নিজের ভোগ লালসার তৃপ্ততার ফলে
কর্ণের জন্ম।
লোক লজ্যার কারণে কর্ন উপেক্ষিত।
দূর্যোধন নিজের স্বার্থে কর্ণকে
অঙ্গরাজ্য দিলো।
কুন্তী মাতা হলেও রক্ষাকবচ ছিনিল।
যে অর্জুন কে বাঁচাইতে কর্ণের মৃত্যুর
কারন হইলো।
সেই অর্জুনওতো পাণ্ডুর ক্ষেত্রজ
পুত্র ছিল।
তাহা হইলে কুন্তী কেন কর্ন কে ত্যাগিল।
আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক চিন্তায় এত অন্যায় অবিচার।
যে চরিত্র কলঙ্কে লিপ্ত ,
সেই দেখি পঞ্চসতীর অগ্রগণ্য।
এ কেমন বিচার হয়না বোধগম্য।

   <--©--●অনাথ●--->
     【--anrc,19/12/2018--】
     【=সকাল:06:08:22=】 【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
=========================




Comments

Popular posts from this blog

588>|| ভালো আছি ||

570> || মানুষ চেনা দায় || M