527>||- ভূত -||------(1)to(9)(+2)(10+3)
1090/1>|| ভূতের >||
1090/2>|| ভূতে ধরার গল্প কথা ||
527/10>|| এক অভিজ্ঞতার গল্পে,ভূতের
কথা || (1+2+3)
পার্ট-1> || আমগাছে ভূতের বাসা ||
পার্ট-2>|| ভূত এবার ওঝাকে তারায় ||
পার্ট-3>|| ভূতের বোঝা ভূতেই বয় ||
=============================
1>||- ভুতের দেশ -||(1)
<-----©-আদ্যনাথ--->
জঙ্গলের পরেই এক মাঠ
মাঠের ধারেই বিশাল জলা।
সেই জঙ্গলে ঘেরা জলার ধারে,
বটগাছ কে ডাইনে ফেলে,
শেওড়া গাছের মগডালে,
ওরা থাকে ছেলে পুলে নিয়ে।
যার সাথে আলাপ হল,
তিনি হলেন পটাশ খুড়ো।
পটাশ খুড়ো বরই ভালো,
আমায় নিয়ে ভুতের দেশে গেল।
কি বলবো আজব সে দেশ,
দিনের বেলা কি সুন্দর পরিবেশ।
জনমানব শূন্য কি শান্ত দেশ,
ভাবলাম এ কেমন ভুতের দেশ।
সন্ধ্যা হতেই একে একে শুরু,
ভাবলে বুক করে দুরু দুরু।
কত যে ভুতের আকার প্রকার
কত যে তাদের নামের বাহার।
সেখানে নাগেলে কিকরে চিনবে,
ভূতেদের বংশ পরিচয় জানবে।
হাজার হাজার ভুতের মেলা,
লক্ষ্য লক্ষ্য পেত্নীর আনা গোনা।
শাকচুন্নি মেছো গিন্নী উল্টো ঝোলা,
মগডালে চলছে কেরামতির খেলা।
কি আর বলবো সেই কথা,
নাদেখলে ছাড়বেনা মাথাব্যথা।
আজব দেশের গুজব কথা,
গেলেই দেখবে এথা ওথা।
চলছে কিসব কান্ড,
ভূতেদের বডি গার্ড এক ষণ্ড,
দাড়িয়ে আছে হতে নিয়ে দন্ড।
দেখতে কি চাও সেই সকল কান্ড,
চলো আমার সাথে দেখবে সে কান্ড।
আছে ব্রহ্মদৈত্য যে দেয় ওদের দন্ড,
উনি ভুতের ঠাকুর দাদা এক প্রকাণ্ড।
কোন ভূত লাফিয়ে চলে
কেউ আবার দাপিয়ে চলে।
কাউকে দেখি উল্টো চলে,
কেউ চলে আবার পাল্টে।
ভূতেরা রকম ভেদে খরম পরে,
গরমে একে অন্যকে জরিয়ে ধরে।
শীত লাগলে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে,
জলে পরলেই যে যার মতন মাছ ধরে।
মাছে ওদের লোভ যে বড়,
মাংস পেলে খামচে ধরে।
মিষ্টান্নের ওদের নাইজে রুচি,
শাক সবজি ছোবেইনা বুঝি।
বুড়ো পাঠার লেজটি খাবে,
ভেড়ার মাংস ফেলে পশম খাবে।
অন্য যা পাবে তার মাথা খাবে,
মুরগি হলে কলিজা খাবে।
মোরগ হলে চক্ষু খাবে।
মোরগের ঝুঁটি দিয়ে চাটনি হবে।
মুরগির লেজ দিয়ে বিরিয়ানি হবে।
এমন আজব খাবার কে খেয়েছ কবে।
মরা ভুতের হার শুকিয়ে গুড়ো করে,
মহিষের গোবর মিশিয়ে ঔষধ হবে।
ভূতদের আছে এক জ্বালা,
গেটে বাতে ই কাবু ওরা।
তবে মহৌষধ এক আছে বটে,
ভূত মরলে অমাবস্যাররাতে,
রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে,
মহিষের গোবর দেয় মিশিয়ে।
দুই চার ডজন কেন্নো ভেজে,
আরশোলার পেটটি কেটে,
ছার পোকা শুকিয়ে নিয়ে,
শেওড়া পাতায় বেঁটে নিয়ে,
খেতে হবে খালি পেটে।
এটা গেটে বাতের ঔষধ বটে।
যাবে নাকি ভূত ধরতে ওই ওধারে,
সেই ওদিকে তেপান্তরের মাঠের পারে।
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc--11/12/2018--】
【=রাত্রি:08:38:22=】 【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
==========================
2>||-ভূতের পেলাম দেখা-|| (2)
<-----©-আদ্যনাথ--->
সেই মজাখালটা পেরিয়ে,
কষাই খানার পেছনের মাঠে,
সেদিন ঠিক দুপুর বেলা,
স্কুল পালিয়ে বসে ছিলাম একলা।
দেখি ঐ ওধারে খালের মাঝে
তিনটে বাচ্চা ভূত করছে খেলা।
বাচ্চা ভূত দেখতে খুবই ভালো,
দুপুরবেলা তাই চিন্তা হোল।
যদি ঘার মটকায়,
শেষে প্রাণটা ই বুঝি যায় ।
তবুও সাহস করে,
গেলাম ওদের কাছে,
ভালো করে দেখব বলে।
এগিয়ে যখন গেলাম কাছে,
এক হোতকা পালোয়ান,
গায়ে ছিলো তার আলোয়ান,
মাথায় একটি বিশাল টিকি,
ইয়া মোটা পৈতে টা আছে দেখি।
এসেই বলেন রেগে,
আমি সব ভুতের ঠাকুরদাদা,
ব্রহ্মদৈত্য বলে মান্য করে সকলে।
তবে তুই এটা বল,
কেন বসে এই দুপুরবেলা,
এখনতো তোর স্কুলের বেলা,
স্কুল পালিয়ে করছিস খেলা।
আমিবলি পেন্নাম হই মশাই,
স্কুলের পন্ডিত মশাই বড়োই কড়া,
দিয়েছেন অনেক কঠিন পড়া।
মুখস্ত হোয়নি আজের পড়া।
তাই স্কুলপালিয়ে কি যায় করা,
এই মাঠে বসে ভাবছি একলা।
কি করি রোজ কতোই পড়ি,
মনে থাকেনা ভুলে যাই সকলি।
সকল শুনে ব্রহ্মদৈত্য বলেন রেগে,
ওরে বেটা হতচ্ছাড়া এমন কথা।
মনে হয় তুই সত্যি বলেছিস,
তাই তোকে দেব একটা বকশিশ।
এই নে মাদুলি আমার,
এটারাখিস যত্ন করে হাতে বেঁধে।
এটা থাকলে সব পারবি।
পড়লেই মুখস্ত থাকবে যা পড়বি।
পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করবি।
যা এবার বাড়ি যা।
পড়া শুনায় মন দে এবার।
নইলে বেটা মটকাবো ঘাড় ।
এই যাত্রায় বেঁচে গেলাম,
ব্রহ্মদৈত্যকে জানিয়ে প্রণাম।
সত্যি বলছি
মাদুলি পরে অবাক কান্ড,
পড়াশুনার ইচ্ছা জাগল প্রচণ্ড।
যা পড়ি তা ভুলি না আর,
সকলের থেকে বেশি নম্বর আমার।
সব বিষয়ে নম্বর ভালো,
মাস্টারেরা বাসছেন ভালো।
ক্লাশে তে হলাম প্রথম,
মাস্টার মশাই করেন আদর জতন।
ভুতের তাবিজের এমন গুন,
আমার বসলো পড়ায় মন,
বাড়লো আমার নাম গুন।
ভুতের তাবিজের অদ্ভুত গুন।
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc---------2018--】
【=রাত্রি:01:08:22=】 【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
======================
3> ||- ভুতের বাড়িতে ভোজ -||(3)
ওই তেপান্তরের সরষে ক্ষেতে,
গিয়েছিলাম হওয়া খেতে।
ধিষণ পেল জল তেষ্টা,
জলের খোঁজে ফাটছে বুকটা।
হঠাৎ দেখি এক মামদো ভূত,
খেলছিল খেলা এক অদ্ভুত।
আমায় দেখে লাফিয়ে আসে,
হাসতে হাসতে বসে আমার পাশে।
আমায় বলে কি খুঁজিস এখানে,
জাবিনাকি আমাদের বাসার পানে।
আমি বলি যাবনা মহাশয়,
আমি খুঁজছি জলাশয়।
মামদো ভূত বলেন রেগে,
কিহবে জলাশয় খুঁজে।
খিদে আমার পেয়েছে ভীষণ,
তাই জল খেয়ে থাকি কিছুক্ষন।
খাওয়াবো রে খাওয়াবো,
খেঙ্গ্রা ভূতের টেংরীর চচ্চোরি,
হ্যাংলা ভুতের মাথার ঘিলুর অম্বল,
পান্ত ভুতের জ্যান্ত কষা।
এসব আইটেম পূজা স্পেশাল,
শিখেছি আমি গিয়ে ইম্ফল।
আরো আছে বেশ কিছু কুল কুল,
যা শিখে এসেছিলাম গিয়ে ইস্তাম্বুল।
আরো কতো খাবার আছে,
খেতে চাইলে উপায় আছে।
ভুতের অম্বল চাটনি আছে,
যা চাইবি তা সবই আছে ।
আস্থ ভেরা, জেন্ত পাঠা,
দেশী আর নেরি কুকুর ভাজা।
কাক শকুনের তেলে ভাজা,
ইদুর, ছুঁচোর, জেন্তো খাসা।
পেঁচার চক্ষু দিয়ে মুড়ি ভাজা,
চামচিকার পকোড়া তাজা।
গেটে বাতের ঔষধ আছে।
রোজ যদি খাও দেখতে পাবে,
বাতের ব্যথা উবে গেছে।
কথা হবেনা খাবার আইটেম নিয়ে,
যেমন খুশি তেমন পাবে।
আরো কতো ঔষধ আছে,
রোগ বলবে বাপরে বাপ,
ভুতের কাছে খুলবো না খাপ।
---©-আদ্যনাথ--->
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc---------2018--】
【=রাত্রি:01:08:22=】 【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
======================
4>||- ভুতের রাজ্য -||(4)
সেদিন ঠিক দুপুর বেলা,
মিলের মাঠের ওধারে ,
ঐ ঝিলটার দক্ষিণ দীগে,
গিয়েছিলাম একলা ও দিগে।
হঠাৎ কে যেনো ধের গলায়,
আমায় ডেকেই পথ আটকায়।
আরে আরে করিস কি ওখানে,
খবরদার যাসনা ওদিক পানে।
কেন তুমি বারণ করবার কে,
যেদিকে খুশি যাবো তুমি কে।
ওদিকে পেত্নী গুলি থাকে,
ওরা ধরলে ঘাড় মটকে খাবে।
আমি ব্রহ্মদৈত্যির সতীনের ছেলে,
আমার তিনটি ছেলে আছে।
তারাও ঠিক তোমার মতন হবে,
তারা বড়োই ভালো তুমি খুশি হবে।
যাবে নাকি ভেবে দেখো আরো,
ভুতের রাজার তিন বর গুলো,
পেলেও পেতে যেতে পারো।
এসব কথা নয়তো মিছে গল্প,
গেলেই দেখতে পাবে অল্প স্বল্প।
ওটা আমার রাজ্যে বটে,
সবাই আমার গোলাম খাটে।
বান্দ্রামি কেউ করলে পরে,
রেগে আমি যাই যে বটে।
বেতের বাড়ি দেই গাঠে গাঠে,
সকলেই ভয়ে সেটিয়ে থাকে।
যাবে নাকি আমার সাথে,
মজা কেমন দেখতে পাবে।
মহান জীবন পেতে হলে,
ভুতের বাড়ি দেখতে হবে।
নচেৎ জীবন যাবে বৃথা,
ঘুরবে কেবল হেথা হোথা।
জগৎ টাকে জানতে হলে,
ভুতের ইতিহাস জানতে হবে।
কত প্রকার আছে যে ভূত,
জানে কেবল ওই অবধুত।
আজকাল আবার বিলাতি ভূত,
রিসার্চকরা ডাক্তার অবধুত।
মেধ গুলি মেশিনে দিয়ে পরে,
মেডিসিন নাকি তৈরি করে।
ভুতের তো আর মেধ নাই,
তাই পশুগুলোর চর্বি মেশায়।
ভুতের বাড়ির নাচন কোদন,
দেখতে পাবি মনের মতন।
চলে যায় আমার সাথে,
ভুল করেও পা দিশ না ওদিক পানে।
যদি আমার কথার বিশ্বাস থাকে,
চলে আয় আমার সাথে।
পলাশ কেন ভুতের ভয়,
আমি আছি কিসের ভয়।
ভয় করলে জোরে জোরে গান গা,
ধেরে গলায় ছড়িয়ে হাত পা।
গান গাইতে গাইতে যেথাখুশি সেথা যা,
ভূত পালাবে ছেড়ে নিজের গাঁ।
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc---11/12/2018--】
【=রাত্রি:12:53:22am=】 【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
=====================
5> || ভূতের দেশে ||
<--©-আদ্যনাথ-->
অদ্ভুত এই ভূতের দেশে
আসুন দেখিএকটু ভূতকে ভালো বেসে।
ভূতের নাচন কোদন ভূতের দেশে এসে,
আসুন সবাই জল চাবাই আরাম করে বসে।
হঠাৎ যদি যায় গুলিয়ে
পাগুলি সব লেঞ্চে গিয়ে।
মুন্ডু যদি দেয় ঘুড়িয়ে,
ঘাড় গুলিতে রদ্দ্যা মেরে।
তেপান্তরের মাঠপেরিয়ে
যাও যদি নাক উচিয়ে,
দেখতে পাবে খাল পেরিয়ে
শেওড়া গাছের মগডালেতে
পোরোবাড়ির বন্ধ ঘড়ে
পৌঁছে গেলেই গন্ধ পাবে
শাখ চুন্নী যদি তোমায় খোঁজে
তাইতো বলি যাবে নাকি
অদ্ভুত সেই ভূতের দেশে।
যেতে পারো পা গলিয়ে
ভাঙা ওই জানালা দিয়ে।
====<--©-আদ্যনাথ-->=====
=======================
6> || ভূতের কেত্তন ||
<--©-আদ্যনাথ-->
সবাই বলে ভূতে নাকি মানুষ ধরে,
মামদো বলে মানুষ গুলোই ভূতকে ধরে।
ভূতের হাসি ভূতের কান্না
এগুলোতো মানুষ বোঝেনা।
ভূতেরা তাই মানুষকে করে ঘেন্না,
নিশুতি রাতে এমনি ভূতের কান্না।
সাকচুন্নি মাছ ধরলে বিলের জলে,
গেছো গুলি ঝুলতে থাকে গাছের ডালে।
ব্রহ্মদত্যির কঠিন শাসন
বটগাছের মগডালেটে ঝুলিয়ে আসন।
এবার বুঝি ভূতে পেয়েছে,
শেওড়া গাছের ডাল ভেঙেছে,
ছাদের উপরে নাচ জুড়েছে,
নিশুতি রাতে ঘুম ভেঙেছে।
চতুর্দিশির রাত্রি যবে,
ভূতের বাপের কেত্তন হবে।
ভূতনি গুলি ঘোমটা দিয়ে,
কুকুর বেড়ালের হাড় ভিজিয়ে,
বাটনা বাটছে তেঁতুল দিয়ে।
মাছগুলি ভাজতে হবে,
ভূতের তেলে রান্না হবে।
পেত্নী গুলি ঠ্যাংবাড়িয়ে,
উনুনের ভেতরে পা ঢুকিয়ে।
দাউ দাউ করে আগুন জ্বেলে,
রান্না করছে ঠ্যাং পুড়িয়ে।
মামদোরা সব জোগারে ব্যস্ত,
খেতে বসেছে ভূত পেত্নী সমস্ত।
হাসি কান্না খেঙরাকাঠি,
হচ্ছে বুঝি ল্যাঠা লাঠি।
পেত্নী গুলি মাছ ধরে হাতবাড়িয়ে
খালের কাদায় হাতডুবিয়ে।
শিঙ্গি মাছে মারলে আল
পেত্নিগুলির বেজায় হাল।
দাঁতগুলো সব হিচকে ওঠে
ঠোঁট গুলো ছিটকে গিয়ে কপালে ঠেকে।
স্কন্দ কাটার হম্বি তম্ভী
মুন্ডু ছাড়াই গজ গম্ভী।
বনের ভেতর দৌড়ে বেড়ায়
যখন তখন গাছে ধাক্কা খায়।
মুন্ডু নাই তাই বুদ্ধিকোথায়
খাবার গুলি পেটে ঢোকায়।
ব্রহ্মদত্যির ঠাকুরদা
ছিলেন একজন কেউ কেটা।
বয়সের ভারে হাড়ে ঘাস গজিয়ে,
বাজনা বজায় বুকের পাঁজর দিয়ে।
দেখতে কি চাও ভূতের কেত্তন
চলে এসো আমার কাছে রাত্রি যখন।
কম্বল এন সাথে করে,
ভয় পেলে নেবে জড়িয়ে।
সাহস একটু থাকতে হবে,
ভূত যদি জিরিয়ে ধরে আদর করে।
ভয়পেলেই যাবে সব কেলিয়ে
হোৎকা ভূতের কোল জড়িয়ে।
=====<--©-আদ্যনাথ-->======
=======================================
7>||--ভূত---||--21/08/2017:::--
একনয়, দুই নয় চোদ্দ ভূতের খেলা,
আলেয়া,পেত্নী,মেছোভূতের জ্বালা,
বেতাল,ব্রহ্মদৈত্য,একানড়ে,করছে ঝালা পালা।
গেছোভূত,মামদোভূত,নিশির বার বাড়ন্ত বেশি,
শাখচুন্নি, চোরাচুন্নি,এরা নয়তো বিদেশি,
পেঁচাভূত,পেঁচিভূত,কানাভূতের উৎপাত বেশি।
এতো মিষ্টু ভূত দুস্টু ভূত ও তাদের খোকা,
ভাবছো বুঝি পাব কার কোথায় দেখা?
ভূত চতুর্দশীতে ১৪ভূতের মেলা,
তাদের নিয়ে অঘোরদের খেলা।
পাইকারি দরে চলে ভূতের মেলা।
ভাদ্র আমাবশ্যাতে পাবে তাদের দেখা,
স্বশানে নয় শহরের মল বাজারে একা।
সবার দাদু ব্রহ্মদৈত্য,
তিনি রোজ লেখেন গদ্য পদ্য,
খিদে পেলে নচেৎ কিছু কুখাদ্য।
কোনটা ভালো কোনটা কালো?
কোনটার বোঁচা নাক গুলো?
সেদিন দিয়ে ছিলাম কান মুলে,
পালিয়ে গেল পুকুরের জলে।
নাকি কোলকাতার মলে?
স্বশান গুলো হয়ে গেছে ইলেকট্রিক,
তাই বুঝি আজকাল ওরা মাখছে ফেব্রিক।
শাড়ি আর স্কার্টে দিচ্ছে পোজ,
গুপি বাঘার ভূত গুলোর চলছে খোঁজ।
দোকানদারের তো পোয়া বারো,
ভূত গুলো সব সাবরে দিল।
ভূতের সাথে করলে ফাজলামি,
সুযোগ পেলেই দেবে কেলানি।
আগে লোকে ভূত দেখতো,
এখন ভূত ছাপ শারিতেই ক্ষান্ত।
আমি খুঁজছি ভূতের রামায়ণ,
সব ভূতেরাই করছে পলায়ন।
পারলে একটা দুটো ধরে রেখো,
আমার দরকার মনে রেখো।
||--©➽-ANRC----21/08/2017:::--||
||=====================||
8>|| ভূতের কঙ্কাল ||
<----আদ্যনাথ--->
দেখি শুনি,শুধু চুপ থাকি,
বলিনা কিছুই আর,
চলছে কেমন চলছে দেখো
কেমন জেন কার বার!
যাচ্ছিলো শব, নিয়ে গেছে জঞ্জাল,
বাকি আছে শুধু একটা জ্যান্তI কঙ্কাল।
সে-জে ছায়া হয়ে ঘোরে,
ঘরে বাইরে পুরানো দুয়ার ঘরে।
কত বলি তারে এবার একটু থাম,
কিছুতেই মানেনা কেবলি ঝরায় ঘাম।
অনেক ভেবেছি করবো বিদায়,
হতচ্ছাড়া এই জ্যান্ত কঙ্কালের দায়।
গোকুল দা পাঁচটা জোগাড় করেছে খেটে,
একটা কানা একটা খোঁড়া একটা হাবা জানে,
আর দুটো চালাকঅতি তর্ক করতে জানে,
হোকনা যেমন তেমন খাটতে ঠিক জানে।
সহজ তো নয় ব্রহ্মভূতের কঙ্কাল,
আর আছে কিছু,সে-সব অপদার্থ জঞ্জাল।
কঙ্কাল গুলো সেদ্ধ করে পিষে নিতে হবে তেল ছেঁকে,
খাঁটি কঙ্কালের মজ্জার রস নিতে হবে ছেঁকে।
ওই রসেতেই পালাবে ভূত বাপ-বাপ করে ভেগে,
ভূতের ঔষধ ভূত পিষেই হয় গরম তেলে ভেজে,
এসব গোপন তথ্য যাবে নাকো বলা,
তবে জানতে হলে যেতে হবে তেপান্তরে ঠিক দুপুর বেলা।
<------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
10/04/2025 ::দুপুর 12:30
=========================
9>|| ভূতের উৎপাত ||
<----আদ্যনাথ--->
ছিল একা ওই শেওড়া গাছের ডালে,
দেখি জড়ো হয়েছে আরো গোটাদুই হালে।
কে-জানে কেমন করে আবার,
ধরে আনা কঙ্কালটা হাসে বার বার।
এতগুলো ভূত রাতভর করে উৎপাত,
পাড়াপড়শির ঘুম নেই জেগে থাকে সারারাত।
সকলেই ভীত কে জানে কখন কি হয়,
মোড়ল গেছেন নালিশ নিয়ে ব্রহ্মদত্যির গাছে,
শেওড়া গাছে শাকচুন্নি বসে,
ব্রহ্মদত্যি বসেন বেল গাছের ডগে।
এবার ওদের দিতে হবে উচিত শিক্ষা,
আর তাই গ্রাম বাসী করছেন প্রতীক্ষা।
সকলে ভেবেছে ঠিক,
ওদের ভাবনার চিন্তাও ঠিক।
চাই শুধু ভূতের মজ্জার রস,
দু-চারটাকে ধরে করতে হবে বশ।
করতে ওদের আজ্ঞাধীন,
নাচাতে হবে তা-ধিনা-ধীন।
গিয়েছিলাম রায়দের বাগান বাড়িতে,
দু-চারটে জোগাড় করতে,
সেখানে দেখি ভীষণ কান্ড
চলছে ভোজ সে এক প্রকান্ড।
কি-জে হচ্ছে সেখানে রান্না,
গন্ধতেই পাচ্ছে ঘেন্না।
এমন হলে হবেনা কার্য সিদ্ধ,
ওদের করতে হবে বড়শিতে বিদ্ধ।
যেন কোনমতে না হয় আঘাতপ্রাপ্ত,
তবেই ওরা দিন দুপুরে হবে জব্দ।
বড়শিতে ভূত গেঁথে,
আনতে হবে ওদের বেঁধে,
ভূতের ঠাকুরদা ব্রহ্মদৈত্য বটে,
বাকি গুলো সব পড়েছে দেখি কেটে।
চালকি করলেই বেজায় যাবে চোটে,
দেখতে সরল আসলে সব মূর্খ বটে।
শাকচুন্নি গুলো চালাক হয় যে বটে,
একটু হলেও কু-বুদ্ধি ঠিক রাখে ঘটে।
দেখেছি ভূত গুলো বেশ রাতভর খাটে,
দশ জনের কাজ একাই করেতে জোটে।
থামে-না,হাপায়-না ফাকিও মারেনা বটে,
কাজ শেষ হতেই আবার কাজ খোঁজে।
<------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
10/04/2025 ::দুপুর 12:30=pm
========================
1090/1>|| ভূতের চরিত্র ||
1090/2>|| ভূতে ধরার গল্প কথা ||
======================
1090/1>|| ভূতের চরিত্র ||
<----আদ্যনাথ---->
"ভূত"
আজ "ভূত" নিয়ে কিছু বলবো,
যেটুকু বলবো একান্ত নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলবো।
কোন অবান্তর বা বাড়ন্ত কথাও নয়, কারুর শোনা কথাও নয়,
নিজে যা দেখেছি বুঝেছি সেই টুকুই লিখলাম।
আশা করি পড়বেন একটু সময় থাকলে।
ভূতের কথা ভেবে আনদেখা করবেন না অবহেলা ছলে।
|| ভূতের চরিত্র ||
<----আদ্যনাথ---->
ভূতের চরিত্র বোঝ দায়,
মানুষ ভূতকে ভয়পায়,
আবার ভূত মানুষকে ভয় পায়,
ভূত মানুষের পাশেই থাকতে চায়।
ভূত আছে সত্যই বোঝা যায়,
একটু সচেতন হলেই ভূতকে দেখা যায়।
ভূতে-মানুষে সম্পর্ক চিরকাল,
সব জেনেও কিছু নাজানার আকাল।
আমার হয়েছিল ভূতের সাক্ষাৎকার,
সেই দিনগুলির অভিজ্ঞতাও চমৎকার।
সেই সখ্যতা জীবনের এক অভিজ্ঞতা,
তবুও অতি জটিল ভূতের চরিত্র ব্যাখ্যা।
মানুষের অনেক আশা আকাঙ্খা নিয়ে চলা,
ভূতদের অতৃপ্ত বাসনার বোঝা বয়ে চলা।
মানুষ এগিয়ে চলে ভবিষ্যতের আশায়,
ভূতের ভবিষ্যৎ সর্বদা অন্ধকারের দিশায়।
মানুষ যেখানে, ভূতও সেখানে,
ভূত চায় মানুষের সাহায্য পেতে,
তাইতো ভূত থাকে মানুষের পাশে,
ভূতের ভবিষ্যৎ যেন গভীর অন্ধকারে।
কখনো, কোনটা মানুষ, কোনটা ভূত, বোঝাই মুস্কিল,
দুঃসময়ে মানুষ,মানুষকে দেখেই ভয় পায়।
মানুষ নিজেই যে ভূত,মানুষ সেটাই ভুলে যায়।
বুঝিনা মানুষে ও ভূতে ফারাক কোথায়।
একজনকে স্ব-শরীরে দেখাযায়,
একজন হওয়ায় ঘুরে বেড়ায়।
মানুষ যখন তখন নিজেকে পাল্টাতে পারে,
তাই বুঝি মানুষ চেনা দায় হয়ে পরে।
ভূতও যখণ ইচ্ছা নিজের রূপের পরিবর্তন করে,
এভাবেই ভূতে -মানুষে ফারাক বোঝাই
মুস্কিল হয়ে পরে।
ভূত কখনো মিথ্যা বলেনা,কোন অন্যায় করেনা,
মানুষ ভূতের অনেক গল্প বলে, বেশ কিছু মিথ্যাও বলে।
মানুষ নিজের কল্পনা গুলি ভূতের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়,
ভূতকে ভয়ঙ্কর বলে মানুষ মানুষকে ভয় দেখায়।
সত্য বলছি, ভূত কখনোই তেমনটা নয়,
যেমনটা তার নামে মিথ্যা রটানো হয়।
মানুষ ভূতের ওপরে অবাস্তব বুদ্ধি খাটায়,
ভূত কিন্তু চুপ করে সব সহ্য করে যায়।
মানুষ মাত্রেই ভূতের নামে মিথ্যা রটায়,
মানুষ ভুলেজায়, মানুষের অতৃপ্ত আত্মাই
ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।
মানুষ বিচিত্র, চরিত্র হীনও হয়,
মানুষ মিথ্যা বলে ভূতকে জড়ায়।
ভূত সর্বদা বিদ্যান নাও হতে পারে,
কিন্তু ভূত কখনই চরিত্র হীন নয়।
ভূত নিয়ে অনেক গবেষণাই হয়েছে,
চরিত্র হীন ভূত কোথাও কেউ কি পেয়েছে?
তাইতো ভূতনিয়ে অনেক কিছুই বলা চলে,
তবে অযৌক্তিক মিথ্যাই বেশি বলা হবে।
আসলে ভূতে-মানুষে সম্পর্কটাই বড় জটিল,
কে সত্যি, কে মিথ্যা বোঝাই মুশকিল।
তাইতো মানুষের ভাগ্য আর ভূতের কপাল,
এভাবেই ভূতে-মানুষে লড়াই চলছে
চিরকাল।
ভূত যখন সামনে আসে ভবিষ্যৎ হয়ে,
পথ চলা অনেকটাই সহজ হয়ে পরে।
অনেক অজানা বুঝি হয় চেনা জানা
অনেক কিছু ভাবা যায় নুতন ভাবনা।
<------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
13/04/2025 ::04:05 pm
============================
1090/2>|| ভূতে ধরার গল্প কথা ||
<-----আদ্যনাথ----->
পথের ধারে ছিল শেওড়া গাছের ঝোপ,
বড় গাছটার চেহারাটা যেন ভূতের গোপ।
আন্ধকারেই খুঁজতে হবে,
নিশ্চই গোটাদুই পাওয়া যাবে।
মুস্কিল হলো ওরা দল বেঁধে থাকে,
একটাকে ডাকলেই সবকটা আসে।
এমনিতে ওরা সরল সোজা,
ওদের আসল চরিত্রটাই যায়না বোঝা।
খায় দায় আর মগডালে দোল খায়।
কথায় আছে না--
খাই দায়ী আর হাঁটু মুড়ে ঘুমাই,
ওদের অবস্থায় ও ঠিক তাই।
তবে বশ করতে পারলে কাজের হয়,
যত ইচ্ছা খাটিয়ে নেওয়া যায়।
একবার কাজে লেগে গেলে
থামেনা কাজ শেষ না করে।
তবে সবাই যে বলে---
ভূতেরা নাকি মানুষকে ধরে,
আসলে ওটা উল্টো কথা বলে।
ভূতেরা নিজেদের উদ্ধার করতে,
মানুষের কাছে আসে সাহায্য চাইতে।
মানুষরা ভূত দেখেই ভয়ে অস্থির,
আর ভূতেরা থাকতে না-পেরে স্থির,
চেপে বসে এক লাফে মানুষের ঘারে,
এভাবে ভূতেরা মানুষের উপর ভর করে।
আর মানুষরা ভিমরী খায়,
এভাবেই মানুষ কে ভূতে পায়।
ভূত ভয় পেয়ে উল্টা পাল্টা বলে,
আমরা ভাবি মানুষটি ভুল বকছে।
আসলে ভূতই ভয়ে ভুল বকতে থাকে,
আর মানুষ উল্টো পাল্টা ভাবতে থাকে।
এই ভয় পাবার ব্যাপারটাই আসল খটকা,
এভাবেই চলে ভূতে-মানুষে ঝটকা-ফটকা।
ভূতে ধরার গল্প এভাবেই প্রচার পায়,
উল্টো পূরণে মানুষকে ভূতে পায়।
এবার শুরু ওঝা বদ্দি ফুঁক ঝাড়,
সকলি কেরামতির মিথ্যা কারবার।
আসলে ভূতের ভয়ে হয় মাথার ব্যামো,
দরকার সঠিক থেরাপি ও শক-কেমো।
এভাবেই প্রচার হয় ভূতের আজব গল্প,
ভূত যেন নিজেই রাজা, অলীক কল্প।
ভূতের রাজার বড় সকলে পেতে চায়,
ভূতের ভয়ে সকলে দেখি ভিমরী খায়।
ভূতে-মানুষে সম্পর্ক চিরস্থায়ী অবিচল,
ভূতে-মানুষে সম্পর্ক চিরস্থায়ী গেরাকল।
মানুষ অন্নময় কোষে পূর্ন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ,
ভূত অশরীরি এক ক্ষণিক কল্পনায় সৃষ্ট।
মানুষনিজ খেয়ালে ভূতের কল্পনা করে,
মানুষনিজ সৃষ্ট সেই কল্পনাকেই ভয় করে।
জীবের ছায়া রূপই ভূতের ভ্রমওঅস্তিত্ব,
জীবের মৃত্যুই ভূত কল্পনার সৃষ্টি ত্বত্ত।
মৃত্যুর পরেই ভূতের সৃষ্টি এমনই কল্পনা,
অশরীরি ছায়াকে নিয়েই জল্পনা কল্পনা।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
13/04/2025:::10:48 pm
============================
527/10>|| এক অভিজ্ঞতার গল্পে,ভূতের
কথা || (1+2+3)
পার্ট-1> || আমগাছে ভূতের বাসা ||
পার্ট-2>|| ভূত এবার ওঝাকে তারায় ||
পার্ট-3>|| ভূতের বোঝা ভূতেই বয় ||
=============================
1>|| আমগাছে ভূতের বাসা ||
(এক অভিজ্ঞতার গল্প কথা)
পার্ট [ 1 ]:::----
<----আদ্যনাথ---->
সেদিন জ্যৈষ্ঠ মাসের 12 তারিখে
গিয়েছিলাম মছলন্দপুরে
নরুল আলির বাড়িতে।
পারিনি আমখাবার লোভ সামলাতে,
তাইতো পৌঁছে গিয়েছিলাম
বিদ্যাধরী নদীর তীরে মছলন্দপুরে।
সেখানে পৌঁছে দেখলাম শুনলাম
আমের মহা কেত্তন,
আমতো নয় সে যে ভূতের কেত্তন,
ওখানে ছিল অনেক আমের বাগান,
আজ হয়ে উঠেছে ভূতের বাগান।
শুনলাম ফলের আশা জাগে প্রতি বৎসর,
মুকুল ও মঞ্জরী হয় খুব সুন্দর,
কিন্তু মুকুল মঞ্জরীতে কি-হবে আর,
ওখানে তো চলে ভূতদের কারবার।
বহু পুরানো গাছটায় আম হতো বারমাস,
এখন সেই আম গাছেই ভূতের বাস।
রোজদেখি গাছে ঝুলছে ভূতের কঙ্কাল,
ভূতেরা খাচ্ছে দোল ধরে আমের ডাল।
ওদের তাড়নায় ওদিকে যাওয়াই মুস্কিল,
আমগাছটি যেন ওদের আনন্দের পিঞ্জিল।
বৎসরভর থাকে ওরা মত্ত নিজের মতন,
ওদিকে যাওয়া চলেনা যখন তখন।
অমাবস্যার মধ্য রাত্রে হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর,
ভূতেদের তান্ডব উৎপাত চলে রাত ভর।
দুনিয়ার গরু, ছাগল, ইঁদুর বাঁদর মরা সব,
নিয়ে এসে রাতভর চলেনাচ মহা তান্ডব।
আমগাছটার দুর্দশা দেখে দুঃখ হয় ভারী,
ভেবে পাইনা কি-করে ভূতদের জব্দ করি।
ওরা ভূত ওদের নাই কোন দাবী দরবার,
চাহিদা একটু নিরিবিলিতে থাকবার।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
14/04/2025:::02:15 am
==========================
========================== ------■■■■■■■■■■■■-----
2>|| আমগাছে ভূতের বাসা ||
(এক অভিজ্ঞতার গল্প কথা)
পার্ট [ 2 ]:::----
|| ভূত এবার ওঝাকে তারায় ||
<----আদ্যনাথ---->
চাহিদা থাক বা না থাক ভূত তো বটে,
কে বলতে পারে কখন কি কান্ড ঘটে।
আমগাছটি-ই যেন ওদের পছন্দের ঘর,
কে জানে কার উপরে কখন করে ভর।
বড় আদরের বারোমাসি আমগাছটি,
দখল করেছে যেন ওদের বাপের সম্পত্তি।
যতোই লঙ্কা পোড়া,লেবু লঙ্কা,জুতো, ঝাড়ু ঝোলাই গাছের ডালে,
ও-সকল টোটকার পাত্তাই দেয়না ব্রহ্ম ভূতের দলে।
আমভূত,জামভূত,আরও আছে কত ভূত,
মোটাভূত,প্যান্টাভূত,অন্য গুলো কিম্ভূত।
সেদিন পেলাম এক ইয়া মস্ত ভূতের ওঝা,
ভস্ম মেখে নেশায় বুদ হয়ে কিযে বলে যায়না বোঝা।
বললো ভূত ধরে বন্ধি করার জন্য লাগবে গোটা দশেক পাটের বস্থা,
কিছু সামগ্রী বিরাট লম্বা দশকর্মার ফর্দ, দশটি মাটির হাঁড়ি ও হামাল দিস্তা।
তারপর ভূত চতুর্দশীতে নানান ফুল, ফল,চাল, ডাল, সর্ষে, তিল কারি কারি।
তন্ত্র মন্ত্রের নানান উপাচার সহযোগে
গোময়,গোমূত্র, গঙ্গাজল হাঁড়ি হাঁড়ি।
ওরা চারজন নামিওঝা ভূতের কারবারি,
যেন কোন অশ্বমেধ জজ্ঞে হবে ভারী।
দিন ভর চলছিল হম্বি, তম্ভী, পূজা পার্বন,
ভয়ঙ্কর সেই মধ্যরাতের ঘটনা কি করে করি বর্ণন।
রাতভর চলছিল খিস্তি খেউর ওঝাদের তান্ডব,
হঠাৎ কিছুই বুঝলাম না কোথা থেকে
ঘটলো কি কান্ড।
ওঝা মশাই চিৎ-পাৎ ধুতি খুলেই দৌড়লো।
ওর সাথীরাও পিছে পিছে হুমড়ি খেয়ে সব উল্টোলো।
সেই রাত্রে ভূতের উৎপাতে পূজা পাঠ সব হোল লন্ড-ভন্ড,
সকলে হেসেই অস্থির দেখে সেই আজব কান্ড।
তারপরে কত খুঁজেও পাইনি সেই ওঝার কোন খোঁজ,
সেই ওঝারা যে কোথায় পালালো কেউ রাখেনি তার খোঁজ।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
15/04/2025 ::12:30 am
============================
============================
■■■■■■■■■■■■■■
3>|| আমগাছে ভূতের বাসা ||
(এক অভিজ্ঞতার গল্প কথা)
পার্ট [ 3 ]:::----
|| ভূতের বোঝা ভূতেই বয় ||
<----আদ্যনাথ---->
কদিন পরে এলেন এক নামিওঝা নিয়ে সাঙ্গপাঙ্গ,
তিনি তিনদিন তিনরাত করলেন ভীষণ যজ্ঞ।
যজ্ঞের ভীষণ আগুনে আমগাছটি পুড়ল শেষ কালে,
পোড়া আমগাছটি দাঁড়িয়ে রইলো পুকুর ধারে।
ভূতেরা কিন্তু আজও দিব্যি রয়েছে ওই পোড়া আমের ডালে,
এখন মাঝে মাঝে পোড়া ডাল ভেঙে পড়ে
কখনো ঘুনে ধরে।
লোকেরা বলে ভূতেরাই ভাঙছে ডাল,
আসলে মরা গাছেও আছে ভূতের দল।
আজও পুকুর ধারে সন্ধ্যা হতেই নানা কান্ড ঘটে,
সে কথা ভাবলেই ভয় তো লেগেই বটে।
দেখি, শুনি, ভুতের আকার প্রকার,
ভাবি, কত যে ভূতের নামের বাহার।
ভূতের এ-হেন গুহ্য ব্যাপার-স্যাপার,
জানতে হলে যেতে হবে মছলন্দপুর
বিদ্যাধরী নদীর পার।
সেখানে না গেলে কি-করে চিনবে জানবে,
ভূতেদের বংশ পরিচয় কি করে জানবে!
ভূতের জগতে হাজার হাজার ভুতের বাসা,
সাথে আছে লক্ষ্য লক্ষ্য পেত্নীও শাকচুন্নির উঠা বসা।
ভুলেও ভূতকে কোরোনা অবহেলা,
ওরা তো আছেই সাথে নিয়ে চেলা-পেলা।
ভূত আছে তাই ভবিষ্যত আছে,
সব ভূতের কি আর মাথা আছে?
যার মাথা আছে সে মানুষের গন্ধ শোকে,
যার মাথা নাই সে কবন্ধ রাক্ষস বা দানব হয়ে থাকে।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
18/04/2025:::01:18 am
============================
527/10>|| এক অভিজ্ঞতার গল্পে,ভূতের
কথা || (1+2+3)
পার্ট-1> || আমগাছে ভূতের বাসা ||
পার্ট-2>|| ভূত এবার ওঝাকে তারায় ||
পার্ট-3>|| ভূতের বোঝা ভূতেই বয় ||
=============================
1>|| আমগাছে ভূতের বাসা ||
(এক অভিজ্ঞতার গল্প কথা)
পার্ট [ 1 ]:::----
<----আদ্যনাথ---->
সেদিন জ্যৈষ্ঠ মাসের 12 তারিখে
গিয়েছিলাম মছলন্দপুরে
নরুল আলির বাড়িতে।
পারিনি আমখাবার লোভ সামলাতে,
তাইতো পৌঁছে গিয়েছিলাম
বিদ্যাধরী নদীর তীরে মছলন্দপুরে।
সেখানে পৌঁছে দেখলাম শুনলাম
আমের মহা কেত্তন,
আমতো নয় সে যে ভূতের কেত্তন,
ওখানে ছিল অনেক আমের বাগান,
আজ হয়ে উঠেছে ভূতের বাগান।
শুনলাম ফলের আশা জাগে প্রতি বৎসর,
মুকুল ও মঞ্জরী হয় খুব সুন্দর,
কিন্তু মুকুল মঞ্জরীতে কি-হবে আর,
ওখানে তো চলে ভূতদের কারবার।
বহু পুরানো গাছটায় আম হতো বারমাস,
এখন সেই আম গাছেই ভূতের বাস।
রোজদেখি গাছে ঝুলছে ভূতের কঙ্কাল,
ভূতেরা খাচ্ছে দোল ধরে আমের ডাল।
ওদের তাড়নায় ওদিকে যাওয়াই মুস্কিল,
আমগাছটি যেন ওদের আনন্দের পিঞ্জিল।
বৎসরভর থাকে ওরা মত্ত নিজের মতন,
ওদিকে যাওয়া চলেনা যখন তখন।
অমাবস্যার মধ্য রাত্রে হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর,
ভূতেদের তান্ডব উৎপাত চলে রাত ভর।
দুনিয়ার গরু, ছাগল, ইঁদুর বাঁদর মরা সব,
নিয়ে এসে রাতভর চলেনাচ মহা তান্ডব।
আমগাছটার দুর্দশা দেখে দুঃখ হয় ভারী,
ভেবে পাইনা কি-করে ভূতদের জব্দ করি।
ওরা ভূত ওদের নাই কোন দাবী দরবার,
চাহিদা একটু নিরিবিলিতে থাকবার।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
14/04/2025:::02:15 am
==========================
========================== ------■■■■■■■■■■■■-----
2>|| আমগাছে ভূতের বাসা ||
(এক অভিজ্ঞতার গল্প কথা)
পার্ট [ 2 ]:::----
|| ভূত এবার ওঝাকে তারায় ||
<----আদ্যনাথ---->
চাহিদা থাক বা না থাক ভূত তো বটে,
কে বলতে পারে কখন কি কান্ড ঘটে।
আমগাছটি-ই যেন ওদের পছন্দের ঘর,
কে জানে কার উপরে কখন করে ভর।
বড় আদরের বারোমাসি আমগাছটি,
দখল করেছে যেন ওদের বাপের সম্পত্তি।
যতোই লঙ্কা পোড়া,লেবু লঙ্কা,জুতো, ঝাড়ু ঝোলাই গাছের ডালে,
ও-সকল টোটকার পাত্তাই দেয়না ব্রহ্ম ভূতের দলে।
আমভূত,জামভূত,আরও আছে কত ভূত,
মোটাভূত,প্যান্টাভূত,অন্য গুলো কিম্ভূত।
সেদিন পেলাম এক ইয়া মস্ত ভূতের ওঝা,
ভস্ম মেখে নেশায় বুদ হয়ে কিযে বলে যায়না বোঝা।
বললো ভূত ধরে বন্ধি করার জন্য লাগবে গোটা দশেক পাটের বস্থা,
কিছু সামগ্রী বিরাট লম্বা দশকর্মার ফর্দ, দশটি মাটির হাঁড়ি ও হামাল দিস্তা।
তারপর ভূত চতুর্দশীতে নানান ফুল, ফল,চাল, ডাল, সর্ষে, তিল কারি কারি।
তন্ত্র মন্ত্রের নানান উপাচার সহযোগে
গোময়,গোমূত্র, গঙ্গাজল হাঁড়ি হাঁড়ি।
ওরা চারজন নামিওঝা ভূতের কারবারি,
যেন কোন অশ্বমেধ জজ্ঞে হবে ভারী।
দিন ভর চলছিল হম্বি, তম্ভী, পূজা পার্বন,
ভয়ঙ্কর সেই মধ্যরাতের ঘটনা কি করে করি বর্ণন।
রাতভর চলছিল খিস্তি খেউর ওঝাদের তান্ডব,
হঠাৎ কিছুই বুঝলাম না কোথা থেকে
ঘটলো কি কান্ড।
ওঝা মশাই চিৎ-পাৎ ধুতি খুলেই দৌড়লো।
ওর সাথীরাও পিছে পিছে হুমড়ি খেয়ে সব উল্টোলো।
সেই রাত্রে ভূতের উৎপাতে পূজা পাঠ সব হোল লন্ড-ভন্ড,
সকলে হেসেই অস্থির দেখে সেই আজব কান্ড।
তারপরে কত খুঁজেও পাইনি সেই ওঝার কোন খোঁজ,
সেই ওঝারা যে কোথায় পালালো কেউ রাখেনি তার খোঁজ।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
15/04/2025 ::12:30 am
============================
============================
■■■■■■■■■■■■■■
3>|| আমগাছে ভূতের বাসা ||
(এক অভিজ্ঞতার গল্প কথা)
পার্ট [ 3 ]:::----
|| ভূতের বোঝা ভূতেই বয় ||
<----আদ্যনাথ---->
কদিন পরে এলেন এক নামিওঝা নিয়ে সাঙ্গপাঙ্গ,
তিনি তিনদিন তিনরাত করলেন ভীষণ যজ্ঞ।
যজ্ঞের ভীষণ আগুনে আমগাছটি পুড়ল শেষ কালে,
পোড়া আমগাছটি দাঁড়িয়ে রইলো পুকুর ধারে।
ভূতেরা কিন্তু আজও দিব্যি রয়েছে ওই পোড়া আমের ডালে,
এখন মাঝে মাঝে পোড়া ডাল ভেঙে পড়ে
কখনো ঘুনে ধরে।
লোকেরা বলে ভূতেরাই ভাঙছে ডাল,
আসলে মরা গাছেও আছে ভূতের দল।
আজও পুকুর ধারে সন্ধ্যা হতেই নানা কান্ড ঘটে,
সে কথা ভাবলেই ভয় তো লেগেই বটে।
দেখি, শুনি, ভুতের আকার প্রকার,
ভাবি, কত যে ভূতের নামের বাহার।
ভূতের এ-হেন গুহ্য ব্যাপার-স্যাপার,
জানতে হলে যেতে হবে মছলন্দপুর
বিদ্যাধরী নদীর পার।
সেখানে না গেলে কি-করে চিনবে জানবে,
ভূতেদের বংশ পরিচয় কি করে জানবে!
ভূতের জগতে হাজার হাজার ভুতের বাসা,
সাথে আছে লক্ষ্য লক্ষ্য পেত্নীও শাকচুন্নির উঠা বসা।
ভুলেও ভূতকে কোরোনা অবহেলা,
ওরা তো আছেই সাথে নিয়ে চেলা-পেলা।
ভূত আছে তাই ভবিষ্যত আছে,
সব ভূতের কি আর মাথা আছে?
যার মাথা আছে সে মানুষের গন্ধ শোকে,
যার মাথা নাই সে কবন্ধ রাক্ষস বা দানব হয়ে থাকে।
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>
18/04/2025:::01:18 am
============================
Comments
Post a Comment