506>|| || পুটির উদ্ধার ||
<--©➽--আদ্যনাথ-->
কিম্ভুত কিম্ভুত তেনাদের পৈঠায়
অদ্ভুত নাচেনের ভেল্কি দেখায়।
পালোয়ান গায় গান বেরসিক গলায়,
গৃহ বাসী সবে মিলে ছুটিয়া পালায়।
মামা বাবু হাতে নিয়ে আম আর ইলিশ,
ধুতি পাঞ্জাবি গায়ে, বুট তার পালিশ।
গুনগুন গেয়েচলে বোসেদের গলিতে
বাজার ফেরত চলেছেন দিদির বাড়িতে।
পথে ভাগ্নেকে দেখেই হাক দিয়ে ডাকে
ডাকের বহরেই ভাগ্নে আগে আগে ভাগে।
সেইক্ষণে ভাগ্নের নজরে পড়েছে ইলিশ
মামাকে করতেই হবে একটু মালিশ।
মামার গুনগানে ভাগ্নে অধীর,
দিদি শুনেই রয় না যে স্থির।
আজ রাঁধতে হবে পোলাউ আর ক্ষীর,
ভাই এসেই রবে নাক স্থির।
দুপুরের রোদ আর দক্ষিনা হওয়ায়
কিম্ভুত গুলি বুঝি মামার পিছে ধায়।
খেদাভূত বুঝি এবার মাছের গন্ধ পায়,
শাকচুন্নি বসে আছে ছাদের কিনারায়।
এতেক বুঝিয়ে মামা দৌড়ে পালায়,
ভূতের পেছনে ভাগ্নে লাঠি নিয়ে ধায়।
ভূত গুলি হুস হাস হওয়ায় উড়ে যায়,
মাছ, আম ফেলে মামা ধুতি সামলায়।
ইলিশ মাছ গেল ভূতেদের পেটে
আম গুলি খেল গরু চেটে পুটে।
পুতিদিদি বলে গবু একি তোর দশা রে,
নেয়ে ঘেমে সার, ধুতি তোর কোথায় রে।
গবু বলে খাবনা আর ইলিশ এ মহল্লায়
ভাগ্নে ছিল পিছে তাই প্রাণ বাঁচে এযাত্রায়।
বোসেদের গলি সে তো তেনাদের রাজ
কোনমতে প্রাণ নিয়ে ফিরেছি আজ।
পুটিদিদি বলে আয় খাবি, পোলাউ আর ক্ষীর,
তোর জন্যই রেঁধেছি মনের মতন ক্ষীর।
ছেলেটা কোথায় গেল,পারিনা আর বাপু
বড় ছেলে হেকে বলে,শেওড়া গাছে আছে অপু।
পুটিদিদি বাড়িয়ে দিল নিজের হাত
শেওড়া গাছ থেকে ধরে আনলো আপুর ঘাড়।
গবু বলে কিরে পুটি তুই কি করে মরলি,
পুটি বলে ওলাওঠায় গেছে গ্রামের সকলি।
আয় গবু আয় তোরে লয়ে যাব তেপান্তরের সীমানায়,
তুইও থাকবি দিদি ভাগ্নেদের আঙিনায়।
এতেক শুনিয়া গবু চন্দ্র দৌড়ায় উর্ধ শ্বাসে।
পেছনে তাকিয়ে দেখেন হাজার ভূত তেড়ে আসে।
এযাত্রায় বাঁচে গবু পেয়েগিয়ে মটর গাড়ি,
কোনমতে বাঁচে জীবনখানি ভারী।
বাড়ি ফিরে গিন্নিকে শোনায় দিদির গল্প,
গিন্নি বলেন ঐ দেখো ডালে বসে দিদিও শুনছে তোমার গল্প।
শেষে মিলে বামুন আর ওঝা,
গবুচন্দ্র ছাড়ায় ভূতের বোঝা।
গবুচন্দ্র করলো সকলের সৎকার,
এভাবেই পুটি দিদির হোল উদ্ধার।
<--©➽--আদ্যনাথ-->
18ই আগস্ট2020 রাত্রি 02:50মি am
==========================
Comments
Post a Comment